ঈদ মানেই আনন্দ, কিন্তু সেই আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে সামর্থ্যের প্রশ্ন। বাজারে গরুর মাংসের উচ্চমূল্যে যেখানে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ঈদের খাবার তালিকায় মাংস রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ‘মাংস সমিতি’ নামের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নতুন করে হাসি ফোটাচ্ছে অসংখ্য মানুষের মুখে।
‘আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। বাজারে গোস্তের যে দাম, তাতে কিনে খাওয়া যায় না। সমিতিতে প্রতি সপ্তাহে ৫০ টাকা করে জমা দিছিলাম। সারা বছরের জমানো টাকায় প্রায় চার কেজি গোস্ত পাইছি। ঈদে বউ-ছেলেপেলে নিয়ে খামু।’
কথাগুলো বলছিলেন কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মো. রইচ উদ্দিন (৫৫)। তার মুখের হাসিই যেন এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প।
একই গ্রামের ইজিবাইকচালক আমিরুল ইসলাম জানান, বাজারে এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ‘সংসারের খরচ মিটিয়ে সবাই কিনতে পারে না। তাই ৩০ জন মিলে সমিতি করেছি। কেউ ৫০ টাকা, কেউ ১০০ টাকা করে জমা দিছিল। শেষে কেউ চার কেজি, কেউ আট কেজি করে গোস্ত পাইছি।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে গরুর মাংসের দাম নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা থেকেই কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে গড়ে তুলেছেন ছোট ছোট সঞ্চয়ভিত্তিক ‘মাংস সমিতি’।
এই সমিতিগুলোতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে জমা দেন। বছর শেষে সেই টাকায় ঈদের আগে গরু কেনা হয় বা কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনে সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। সাধারণত ৫০ টাকা করে জমা দেওয়া সদস্যরা প্রায় ৪ কেজি এবং ১০০ টাকা করে জমা দেওয়া সদস্যরা প্রায় ৮ কেজি মাংস পান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, চাপড়া, নন্দলালপুর ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে উৎসবমুখর দৃশ্য। কোথাও গরু জবাই হচ্ছে, কোথাও মাংস কাটার ধুম, আবার কোথাও ওজন করে ব্যাগে ভরা হচ্ছে। চারপাশে অপেক্ষমাণ সদস্যদের মুখে উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট।